
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আসন্ন উত্তর কোরিয়া সফরের আগে সামরিক শক্তি বৃদ্ধির নতুন পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন দেশটির নেতা কিম জং উন। তিনি নৌবাহিনীর জন্য ১০ হাজার টন ধারণক্ষমতার একটি আধুনিক ডেস্ট্রয়ার নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি পানির নিচে পরিচালনাযোগ্য নতুন ধরনের কৌশলগত অস্ত্র উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করেছেন।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় দৈনিক রোদং সিনমুনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি এক নৌ-মহড়া ও সামরিক সরঞ্জাম পরীক্ষার কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন কিম। এ সময় তিনি ৫ হাজার টনের ডেস্ট্রয়ার ‘কাং কন’-এ আরোহণ করেন এবং ‘চোয়ে হিয়ন’ নামের আরেকটি যুদ্ধজাহাজ পরিদর্শন করেন।
কাং কন যুদ্ধজাহাজটি গত বছর উদ্বোধনের সময় প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে আংশিকভাবে উল্টে গিয়েছিল। পরে সেটি মেরামত করে পুনরায় কার্যক্রমে যুক্ত করা হয়।
এর আগে একটি নতুন পারমাণবিক উপাদান উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শনকালে কিম দেশের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার আরও সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। তিনি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ধারাবাহিক বিনিয়োগ ও উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আগামী ৮ ও ৯ জুন পিয়ংইয়ং সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের। দীর্ঘ সাত বছর পর এটি হবে উত্তর কোরিয়ায় তার দ্বিতীয় সফর। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বেইজিংও তাদের কৌশলগত মিত্রতার অবস্থান আরও দৃঢ় করতে আগ্রহী।
রোদং সিনমুনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সম্ভাব্য পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলায় নৌবাহিনীর সক্ষমতা জোরদার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন কিম। একইসঙ্গে স্থল, আকাশ ও সমুদ্র—এই তিন ক্ষেত্রেই আধুনিক ও শক্তিশালী সামরিক অবকাঠামো গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে কিম জং উনের সঙ্গে তার কন্যাকেও দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, তিনি কিমের কন্যা জু অ্যা।
দক্ষিণ কোরিয়ার ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল ইউনিফিকেশনের সিনিয়র গবেষক হং মিনের মতে, উত্তর কোরিয়া এবারই প্রথম ১০ হাজার টনের ডেস্ট্রয়ার নির্মাণ পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আনল। শি জিনপিংয়ের সফরের আগে এই ঘোষণা দেশটির সামরিক সক্ষমতার বার্তা বহন করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সূত্র: আলজাজিরা