
দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পুলিশ বাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও সক্ষম করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে পুলিশ সদস্যরা যে নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছেন, তার যথাযথ মূল্যায়ন এবং স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমেই তাদের আরও উৎসাহিত করা হবে।
সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত ঘটনায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনকারী পুলিশ সদস্যদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী পুলিশ বাহিনী কতটা আন্তরিকতা, দক্ষতা ও পরিশ্রমের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে, সেই বিষয়টি জনগণের সামনে তুলে ধরতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি বলেন, যারা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন, তাদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়া হলে তারা আরও বেশি অনুপ্রাণিত হবেন এবং ভবিষ্যতে ন্যায়নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে উৎসাহ পাবেন।
তিনি আরও বলেন, অতীতে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না তা তার জানা নেই। তবে বর্তমান সরকার পুলিশ বাহিনীর মনোবল বাড়াতে এবং তাদের কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ লক্ষ্যেই পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন সফলতা ও অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা পুলিশ বাহিনীকে আরও বেশি বুস্ট আপ করতে চাই, যাতে তারা আরও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে এবং দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়।
সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি সংঘটিত তিনটি আলোচিত ঘটনায় দায়িত্বশীল ও সাহসী ভূমিকা পালনকারী পুলিশ সদস্যদের সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রামিসা হত্যা মামলার তদন্ত ও অপরাধীদের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং গ্রেপ্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া দৌলতদিয়ায় নৌ পুলিশের তাৎক্ষণিক ও কার্যকর পদক্ষেপের কারণে বহু যাত্রীর প্রাণ রক্ষা সম্ভব হয়েছে। ওই ঘটনায় দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের মধ্য থেকে তিনজনকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, মুন্সিগঞ্জে সংঘটিত গণধর্ষণের ঘটনায় দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে চার আসামিকে গ্রেপ্তার করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সংশ্লিষ্ট তিন পুলিশ সদস্যকেও সম্মানিত করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এসব ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনকারী মোট ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে আজ স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তাদের এই অর্জন ও পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি বাহিনীর অন্য সদস্যদের মধ্যেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং মনোবল বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
তিনি জানান, সম্মানিত প্রত্যেক পুলিশ সদস্যকে পুরস্কার তহবিল থেকে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক প্রণোদনা এবং সম্মাননা সনদ প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশেষ অবদানের জন্য কয়েকজন সদস্যকে ব্যাজও প্রদান করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের স্বীকৃতি পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনে আরও উৎসাহিত করবে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাদের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করে তুলবে।