জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ‘বাংলাদেশ ২.০: সংস্কার, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধি’ শীর্ষক ছায়া বাজেট ঘোষণা করেছে। দলটির মতে, এই প্রস্তাবিত বাজেটের মূল লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক সংস্কার, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং জনকল্যাণমুখী প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা।
রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ছায়া বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। এ সময় দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
দলটির প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৮ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৩.০৯ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখার পরিকল্পনার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি ধাপে ধাপে কমিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রাজস্ব আদায় বাড়াতে করব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগের সঙ্গে আয়কর রিটার্ন বাধ্যতামূলক করা, টিআইএন, জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল আর্থিক সেবাকে সমন্বিত করা, সম্পদ কর চালু এবং বন্দর ব্যবস্থার ডিজিটাল রূপান্তরের মতো পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
করদাতাদের স্বস্তি দিতে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি নারী, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ করসুবিধা এবং করপোরেট কর হার হ্রাসের সুপারিশ করা হয়েছে।
শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বড় অঙ্কের বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি, শিক্ষক উন্নয়ন তহবিল গঠন এবং নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের পরিকল্পনা। একই সঙ্গে আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য ঘোষণা করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে জাতীয় স্বাস্থ্য বিমা চালু, বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। কৃষি খাতে সরাসরি ভর্তুকি প্রদান, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং কৃষিপণ্যের বাজারজাতকরণ সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশ ও জ্বালানি খাতে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে ‘সোলার এনার্জি সোভারেনটি অ্যাক্ট’ প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছে এনসিপি। এর আওতায় সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামীণ এলাকায় সৌর মিনি-গ্রিড স্থাপন এবং ডিজেলচালিত সেচব্যবস্থাকে সৌরশক্তিনির্ভর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নারী ও যুব উন্নয়নের জন্য পৃথক উদ্যোক্তা তহবিল, স্যানিটারি পণ্যে কর অব্যাহতি এবং মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটির সুবিধা সম্প্রসারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। ধর্মীয় সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের জন্যও সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় আনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্যাংকিং খাত সংস্কার, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, পুঁজিবাজার সম্প্রসারণ, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সরকারি ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন নতুন উদ্যোগও ছায়া বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি নেতারা বলেন, তাদের ৭১ দফা সংস্কার কর্মপরিকল্পনা একটি বিকল্প বাজেটের চেয়েও বেশি কিছু। এটি একটি দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন এবং বিনিয়োগবান্ধব রাষ্ট্র গঠনের দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা।
মন্তব্য করুন