চাঁদে ভবিষ্যৎ মানব অভিযান ও স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অগ্রগতির সম্ভাবনা তৈরি করেছে নাসার গবেষকদের নতুন এক আবিষ্কার। তারা এমন একটি বিশেষ উপাদান শনাক্ত করেছেন, যা অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা সহ্য করার পাশাপাশি গলিত চাঁদের ধুলার ক্ষয়কারী প্রভাব থেকেও সুরক্ষা দিতে সক্ষম।
দীর্ঘদিন ধরেই চাঁদের মাটি ও পাথর থেকে অক্সিজেন, ধাতু এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সম্পদ আহরণের প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করছে নাসা। ভবিষ্যতে এসব সম্পদ মহাকাশে বসতি স্থাপন, জ্বালানি উৎপাদন এবং জীবনধারণ-সহায়ক বিভিন্ন ব্যবস্থায় ব্যবহৃত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্লিভল্যান্ডে অবস্থিত নাসার গ্লেন গবেষণা কেন্দ্রে পরিচালিত এক পরীক্ষার সময় এই নতুন উপাদানের সন্ধান পান বিজ্ঞানীরা। গবেষণাকালে তারা কৃত্রিম চাঁদের ধুলার সঙ্গে বিভিন্ন রাসায়নিক যৌগের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছিলেন। পরীক্ষার এক পর্যায়ে স্ক্যান্ডিয়াম অক্সাইডের সঙ্গে চাঁদের ধুলার সংমিশ্রণে সম্পূর্ণ নতুন বৈশিষ্ট্যের একটি পদার্থ তৈরি হয়।
পরবর্তী বিশ্লেষণে গবেষকরা দেখতে পান, উপাদানটি পরিচিত কোনো পদার্থের সঙ্গে মেলে না। এর রাসায়নিক গঠন ও বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করে তারা নিশ্চিত হন যে এটি চরম তাপমাত্রা সহ্য করতে সক্ষম এবং গলিত চন্দ্রধুলার ক্ষয়কারী প্রভাব প্রতিরোধে কার্যকর।
বিজ্ঞানীদের মতে, চাঁদের মাটি প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যবহৃত পাইপ, ধারক, চুল্লি কিংবা অন্যান্য যন্ত্রাংশ তৈরিতে এই উপাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি এটি ভবিষ্যতের মহাকাশযান ও উড়োজাহাজের ইঞ্জিনে তাপ-প্রতিরোধী আবরণ হিসেবেও ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে।
গবেষণায় আরও জানা গেছে, প্রচলিত অনেক তাপ-নিরোধক উপাদানের তুলনায় এটি তুলনামূলকভাবে হালকা, অধিক কার্যকর এবং দীর্ঘস্থায়ী। ফলে মহাকাশ প্রযুক্তির পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রেও এর ব্যবহার নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।
গবেষকরা এখন উপাদানটির উৎপাদন প্রক্রিয়া আরও উন্নত করা, বিশুদ্ধতা বৃদ্ধি এবং বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারযোগ্য করে তোলার লক্ষ্যে পরবর্তী ধাপের গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের আশা, এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে চাঁদে দীর্ঘমেয়াদি মানব উপস্থিতি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
মন্তব্য করুন