ইরানের সঙ্গে গোপন কোনো চুক্তির অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘সুনাম ক্ষুণ্নের অপচেষ্টা’ হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে কাতার। দেশটির সরকারের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, চলমান সংকট শুরুর পর থেকে দোহা তেহরানের সঙ্গে কোনো একতরফা বা গোপন আলোচনায় জড়ায়নি। বরং আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখেই সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে কোনো একমুখী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।’ সংকট মোকাবিলায় কাতার এককভাবে কাজ করছে—এমন ধারণাও নাকচ করেছেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলজুড়ে সমন্বয়ের ভিত্তিতে নেওয়া হচ্ছে। যুদ্ধ বন্ধে কোনো আর্থিক ব্যবস্থার দাবি রয়েছে—এমন তথ্যও তিনি সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেন।
তিনি আরও জানান, কাতার দীর্ঘদিন ধরেই গালফ অঞ্চলের দেশগুলোর সার্বভৌমত্বে হামলার বিরোধিতা করে আসছে। যেকোনো আক্রমণকে দেশটি নিজের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে এবং এর জবাবও সম্মিলিতভাবে হওয়া উচিত বলে মনে করে।
এদিকে হরমুজ প্রণালী-কে দরকষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধেও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে কাতার। কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে দেশটি। পাশাপাশি পাকিস্তান-এর নেতৃত্বে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানিয়ে কূটনৈতিক উদ্যোগেও সক্রিয় রয়েছে দোহা।
মাজেদ আল আনসারি বলেন, আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে কাতার নিবিড় যোগাযোগ রাখছে এবং চলমান আলোচনাকে সমর্থন করছে। তিনি শুধু যুদ্ধবিরতি নয়, বরং একটি সমন্বিত ও স্থায়ী সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, ‘শুধু সাময়িক বিরতি দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়; প্রয়োজন এমন সমাধান, যা সব পক্ষের উদ্বেগকে গুরুত্ব দেবে।’
গত ১৩ এপ্রিল জাতিসংঘ-এ নিযুক্ত আমির সাঈদ ইরাভানি মহাসচিব ও নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্টের কাছে একটি চিঠি পাঠান। সেখানে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডানের কাছে যুদ্ধকালীন ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়। ওই চিঠির পর থেকেই কাতার ও ইরানের মধ্যে গোপন আর্থিক লেনদেনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সংকটের প্রভাব দেখা গেলেও কাতার এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তুলনামূলকভাবে প্রস্তুত অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখপাত্র। তিনি বলেন, অতীতেও বড় ধরনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশটি আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে।
মন্তব্য করুন